• ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Fire

কলকাতা

ছুটির দিন দুপুরে চিৎপুরে ভয়াবহ আগুন! বন্ধ রাসায়নিক কারখানা থেকে মুহূর্তে ছড়াল লেলিহান শিখা

ছুটির দিন দুপুরে কলকাতার চিৎপুরের নবাবপল্লি এলাকায় একটি বন্ধ রাসায়নিক কারখানায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে কারখানাটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায়।আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। প্রথমে পাঁচটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নামে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় আরও ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট দশটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে যুক্ত হয় বলে জানা গিয়েছে।চিৎপুরের নবাবপল্লি এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি। সেখানে পাশাপাশি একাধিক কারখানা এবং বসতি রয়েছে। ফলে একটি কারখানা থেকে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। দমকল কর্মীদেরও আগুন নেভাতে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে রাসায়নিক কারখানাটিতে প্রথম আগুন লাগে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে যায়। পাশের কারখানাগুলির কর্মীরাও তড়িঘড়ি করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরে বার করে আনার চেষ্টা করেন।ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকলের তরফে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নবাবপল্লি এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি জানান, কারখানাটি দোতলা। একতলায় রাসায়নিকের গোডাউন এবং দোতলায় জামাকাপড়ের গুদাম ছিল। কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে বলেও জানান তিনি।বিধায়ক আরও বলেন, আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্রচুর ধোঁয়া বের হওয়ায় আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা।চিৎপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানায় কীভাবে আগুন লাগল এবং কীভাবে তা এত দ্রুত আশপাশের কারখানাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ল। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের অফিসে ফের পুলিশ-দমকল! পাঁচ-ছ’তলায় কী মিলল, কেন সন্তুষ্ট নন আধিকারিকরা?

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সোমবার ফের পৌঁছলেন পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা। অফিসের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের পর সোমবার ফের পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।দমকলের আধিকারিকেরা জানান, নিয়ম মেনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাততলা ভবনটির একতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি তলায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ ও ছতলার অফিসে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার সময় কয়েকটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। অভিযোগ, স্প্রিঙ্কলার ব্যবহার করা যায়নি। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি আগুনের সতর্কবার্তা দেওয়ার অ্যালার্মও বাজেনি বলে জানা গিয়েছে।দমকলের এক আধিকারিক জানান, এই ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভবনের প্রতিটি তলায় একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলি কার্যকর থাকবে কি না, সেটিই মূলত পরীক্ষা করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, সাততলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পাঁচ ও ছতলায় থাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আধিকারিকদের কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।অন্য দিকে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদেরও নানা ভাবে নিশানা করা হচ্ছে।বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন এমন অবস্থানে ছিলেন যেন তিনি সকলের ঊর্ধ্বে। এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশ গিয়েছিল। বেআইনি বিলবোর্ড খোলার বিষয়কে কেন্দ্র করে সে দিন সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকেরা অফিসে পৌঁছনোয় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
কলকাতা

নোটিস নয়, অনিয়ম দেখলেই হোটেল সিল! মির্জা গালিব স্ট্রিটের আগুনের পর বড় নির্দেশ অগ্নিমিত্রার

কলকাতায় বেআইনি হোটেল নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কয়েক দিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি হোটেল ও অতিথিশালা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলগুলি পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানান, শুধু নোটিস দিয়ে আর কাজ চালানো হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়া হবে।অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৬টি হোটেল সিল করেছে দমকল। আরও ২৫টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেল ঘুরে দেখেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই তিনি বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, শুধু নোটিস দিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। কোনও হোটেলে অনিয়ম ধরা পড়লে সেখানে অতিথিরা থাকলে তাঁদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। তার পরেও প্রয়োজন হলে হোটেল সিল করে দেওয়া হবে। তবে সমস্ত কাগজপত্র নিয়মমাফিক থাকলে পরবর্তী সময়ে সেই হোটেল আবার খোলার সুযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।শহরে এত দিন ধরে কী ভাবে বেআইনি ভাবে হোটেল ও অতিথিশালা চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। এই বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি কাজকে আর কোনও ভাবেই নিয়মে পরিণত করা যাবে না।অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা যাতে ফের না ঘটে, তার জন্য শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা জরুরি। কোনও হোটেলে নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দিয়েছেন তিনি।অগ্নিমিত্রা বলেন, নোটিসে কোনও কাজ হয় না। অতিথি থাকলে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। তার পর সিল করে দিন। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে তখন আবার খুলে দেওয়া যাবে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

নিউ মার্কেটের হোটেল বন্ধ, রাতারাতি দ্বিগুণ ভাড়া! বাংলাদেশি রোগীদের নিয়ে গেস্ট হাউসে কী চলছে?

নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ আগুনের পর কলকাতায় গেস্ট হাউস ব্যবসায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে নিউ মার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের একাধিক হোটেল বন্ধ বা বুকিং বন্ধ রাখায় সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসা করাতে কলকাতায় আসা বাংলাদেশি ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ। অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে, এই সুযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকার কিছু গেস্ট হাউসে ঘরের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগ, আগে যে ঘরের দৈনিক ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ছিল, এখন সেই ঘরের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ফলে কম খরচে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসা বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নিউ মার্কেটের হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে তাঁদের মুকুন্দপুর, আনন্দপুর, কসবার টেগোর পার্ক, নস্করহাট এবং পিয়ারলেস হাসপাতালের আশপাশের গেস্ট হাউসগুলিতে ঘর খুঁজতে হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজন। অনেকেই আগে থেকেই নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে ঘর বুক করে কলকাতায় এসেছিলেন। কিন্তু শহরে পৌঁছে দেখছেন, বুক করা হোটেল বন্ধ। ফলে নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে তাঁদের।ঢাকার আজিমপুরের সোহেল শেখ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে চার জনের জন্য দুটি ঘর বুক করেছিলেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন কলকাতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু শহরে এসে হোটেল বন্ধ দেখে বিপাকে পড়েন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অন্য হোটেলেও সহজে ঘর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ার ঘর খুঁজতে শিয়ালদহের দিকে যেতে হয়েছে তাঁদের।বরিশালের ঝালকাঠির মহম্মদ আব্বাস এবং মিজানুর জামালের অভিজ্ঞতাও একই। নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে আগে থেকেই বুকিং করা থাকলেও সেখানে গিয়ে তাঁরা ঘর পাননি বলে অভিযোগ। হোটেলের কর্মীরা দমকল ও পুলিশের নোটিস দেখিয়ে নতুন করে বুকিং নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের একাধিক হোটেলে এখন নথিপত্র যাচাই চলছে। পুলিশ ও দমকলের যৌথ অভিযানের পর অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ নতুন বুকিং বন্ধ রেখেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা মানুষের চাপ গিয়ে পড়ছে শহরের অন্য প্রান্তের গেস্ট হাউসগুলিতে।এর মধ্যেই আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ই এম বাইপাসের দুই পাশে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বেশ কিছু গেস্ট হাউসের অগ্নিনিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু গেস্ট হাউসের অগ্নিনিরাপত্তার অনুমতি বা ব্যবসার বৈধ কাগজপত্র নেই। বর্ষায় কয়েকটি গেস্ট হাউসে যাওয়ার রাস্তায় জল জমে থাকায় পরিবেশও অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ, দমকল এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের একাংশের যোগসাজশেই কোথাও কোথাও বেআইনি গেস্ট হাউসের ব্যবসা চলছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্ত করে প্রমাণিত হয়নি।নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই থাকার জায়গা নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছেন চিকিৎসা করাতে আসা মানুষজন। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, একদিকে হোটেল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প থাকার জায়গায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি থাকার খরচ নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় তাঁরা।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

তারাপীঠের পর খাস কলকাতায় বড়সড় অগ্নিকান্ড হোটেলে, মৃত্যু ৯ জনের

তারাপীঠের পর এবার খাস কলকাতা। মহানগরের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ জন জখম হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে দুটো নাগাদ আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা নেই। দমকলের কোনও অনুমতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অগ্নিনির্বাপনের কোনও ব্যবস্থা হোটেলে ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এই হোটেলের অনেক আবাসিকই ছিলেন বাংলাদেশের। তাঁরা চিকিৎসার জন্য এদেশে এসেছেন। দমকলের সহযোগিতায় আবাসিকরা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন। এই এলাকায় এধাধিক হোটেল রয়েছে। এই হোটেলগুলোর অধিকাংশই আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছিল। পুরসভা বা প্রশাসন সেদিকে কোনও নজর দেননি। দুদিন আগেই তারাপীঠের হোটেল অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে একাধিক হোটেল বেআইনি ভাবে চলছিল। খোদ কলকাতাতেই একাধিক হোটেল বেআইনি ভাবে চলছে তার প্রমান মিলল এই অগ্নিকান্ড। হোটেলগুলিতে ফায়ার এক্সিট বা ইমার্জেন্সি এক্সিট নেই। ফায়ার নেভানোর জন্য সুব্যবস্থা নেই। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কি করে আগুন লেগেছে। এই এলাকাতেই রয়েছে রাজ্য দমকলের সদর দফতর।

আগস্ট ১৯, ২০২৬
রাজ্য

নয় পুণ্যার্থীর মৃত্যুর পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, তারাপীঠে ১৫টি হোটেল-লজ বন্ধের সিদ্ধান্ত

তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় জন পুণ্যার্থীর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল বীরভূম জেলা প্রশাসন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ও লজকে বন্ধের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েক জন পুণ্যার্থী লজ সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ পুকুরে ডুবে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার পুকুরে স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত আর কোনও দেহ উদ্ধার হয়নি।প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার পাশের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় নয় জন পুণ্যার্থীর। মৃতদের মধ্যে মেঘালয়ের পাঁচ জন একই পরিবারের সদস্য। বাকি চার জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা। সোমবার রাতে মেঘালয়ের পাঁচ মৃতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের চার মৃতের দেহও পরিবারের লোকজন নিয়ে যান। দুদিন ধরে মৃতদের পরিবারের পাশে ছিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করেন তিনি।অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলির পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। সোমবার রাত থেকেই কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করেন। তার পরেই মঙ্গলবার ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিনী বি রাঠোর বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকটি হোটেল ও লজকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন না। তাই জেলা শাসকের নির্দেশে সেগুলিকে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হবে।তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হোটেল মালিকেরা। হোটেল মালিক সমিতির পক্ষে জয়ন্ত রায় জানান, মহকুমাশাসকের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সময় চাওয়া হবে। তাঁর কথায়, তারাপীঠে বহু হোটেল রয়েছে, যেগুলির উপর বহু মানুষের সংসার নির্ভরশীল। আচমকা হোটেল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা অসহায় হয়ে পড়বেন। তাই প্রশাসনের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে নিয়ম মেনে সমস্ত হোটেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।হোটেল মালিক নিতাই মালও জানান, তাঁদের হোটেল বহু পুরনো। ফলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। প্রশাসনের নির্দেশ পাওয়ার পরই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আচমকা হোটেল বন্ধ করে দিলে অধিকাংশ মালিকই সমস্যায় পড়বেন।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর পুকুরে নিখোঁজ কারও দেহ রয়েছে কি না, তা দেখতে মঙ্গলবার স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে নতুন করে কোনও মৃতদেহের সন্ধান মেলেনি।

আগস্ট ১৮, ২০২৬
রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই ৯ জনের মৃত্যু! শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বীরভূমে এই ঘটনায় প্রাণহানিতে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করছে বলেও জানানো হয়েছে।সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তারাপীঠের একটি হোটেলে আচমকা আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েক জন। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি কী ভাবে ঘটল এবং নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং পুলিশ, প্রশাসন ও দমকলের আধিকারিকেরা। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভিডিয়ো কলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।এর পরেই দমকল প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের ক্ষেত্রে ৪ লক্ষ টাকা জেলাশাসকের তহবিল থেকে এবং ৫ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।তারাপীঠের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।হঠাৎ আগুন লাগার পর ঘুমন্ত অবস্থায় এত মানুষের মৃত্যু কী ভাবে হল, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং শর্ট সার্কিটই আগুনের একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
রাজ্য

চলন্ত ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে ধোঁয়া-আগুন, বর্ধমানে ২০ মিনিট থমকাল ট্রেন; অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল রেল

ইঞ্জিনের পরের কামরার নীচে ব্রেক বাইন্ডিং থেকে আগুন, খানা-তালিতের মাঝে দাঁড় করিয়ে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনলেন রেলকর্মীরা; নিরাপদে রওনা দিল হাওড়ার উদ্দেশেধানবাদ থেকে হাওড়াগামী ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আচমকাই ধোঁয়া ও আগুন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল যাত্রীদের মধ্যে। পূর্ব বর্ধমানের খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে এই ঘটনা। দ্রুত ট্রেন থামিয়ে রেলকর্মীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি আবার হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়েই ২২৩৮৭ ডাউন ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, পানাগড় পার হওয়ার পর থেকেই ট্রেনে যান্ত্রিক সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি যে এতটা গুরুতর হতে পারে, তা কেউ বুঝতে পারেননি।ট্রেনটি পূর্ব বর্ধমানের দিকে এগোতে থাকলে ইঞ্জিনের ঠিক পরের কামরার নীচ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের শিখাও দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ খানা জংশন ও তালিত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনটি জরুরি ভিত্তিতে থামিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রেলের প্রযুক্তিগত কর্মী ও আধিকারিকরা। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কামরার ব্রেক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত দিক পরীক্ষা করে ট্রেনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পুনরায় হাওড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের পরের কামরায় ব্রেক বাইন্ডিং-এর কারণে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া ও আগুনের সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, রেলকর্মীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ঘটনার সময় ওই কামরায় বহু যাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য কামরাতেও খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই উদ্বেগে বাইরে নেমে আসেন। যদিও রেলকর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।ধানবাদ থেকে ট্রেনে ওঠা এক যাত্রী জানান, আসানসোলের কিছু আগে থেকেই ট্রেনে একটা অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছিল। পরে তালিতের কাছে এসে দেখি কামরার নীচ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তারপর আগুনও দেখা যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।এইদিনের ব্ল্যাক ডাইমন্ডের যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। ট্রেন দাঁড়াতেই নেমে পড়ি। পরে রেলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।এই ঘটনার জেরে ধানবাদ-হাওড়া রেলপথে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রেলের তৎপরতায় কোনও প্রাণহানি বা বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষও। তবে চলন্ত ট্রেনে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে আসায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যরাতে আনন্দের আসর মুহূর্তে মৃত্যুকূপ! পানশালার আগুনে মৃত অন্তত ২৭, আতঙ্কে বিশ্ব

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল থাইল্যান্ডের রাজধানী। ব্যাঙ্ককের একটি জনপ্রিয় পানশালায় মধ্যরাতে আগুন লেগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।রবিবার গভীর রাতে উত্তর ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। সেই সময় হঠাৎ আগুন লাগে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো পানশালায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও অনেকেই আগুনের মধ্যে আটকে পড়েন। আগুন প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় বহু মানুষের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ব্যাঙ্ককের গভর্নর এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পানশালার পিছনের অংশ থেকেও একাধিক দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে মঞ্চের কাছে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই বিস্ফোরণ হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পুরো পানশালা আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতের বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হলদিয়া! এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে আগুন, দগ্ধ বহু মানুষ

হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মঙ্গলবার ভোররাতে আচমকাই ন্যাপথা পাইপলাইনে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় আশপাশের একের পর এক বাড়ি পুড়ে যায়। এই ঘটনায় অন্তত বাইশ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।অগ্নিকাণ্ডের জেরে বড়সড় প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। হলদিয়া-পাঁশকুড়া রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ সকলকেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে হলদিয়ার তেরো নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জিপুর এলাকায়। দুর্ঘটনাস্থলের পাশ দিয়েই রেললাইন রয়েছে। আগুনের তাপে রেলের ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রান্সফর্মারও পুড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগুনের তীব্রতায় রেললাইনের কিছু অংশও বেঁকে গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। হলদিয়া-হাওড়া-হলদিয়া লোকাল বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া-হলদিয়া লোকালের রুট পরিবর্তন করে দুর্গাচক পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেরামতির কাজ শুরু করেছে। তবে আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কাজ করতে সমস্যার মুখে পড়ছেন কর্মীরা।এদিকে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দের সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে চোখের সামনে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁদের বাড়িঘর।আরও এক বাসিন্দার অভিযোগ, আগের সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। কিন্তু সেই অভিযোগের পর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোররাতে হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখেন চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা। মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।অন্যদিকে ঘটনাস্থলে বারোটি দমকল ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে। সংস্থার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভও শুরু করেছেন কর্মীরা। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ৩০, ২০২৬
দেশ

কয়েক মিনিটেই মৃত্যুকূপে বদলে গেল কোচিং সেন্টার, সামনে এল শিউরে ওঠার মতো তথ্য

সোমবার দুপুর পর্যন্ত সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কেউ প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, কেউ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ব্যস্ত বহুতল পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি বহুতলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে ধোঁয়া দেখা যায়। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ উপরতলা থেকে ঝাঁপও দেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। পাশের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে উদ্ধারকারীরা ভিতরে প্রবেশ করেন। অনেক জায়গায় দেওয়াল ভেঙেও আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনটির নিচের অংশে পোষ্য প্রাণীর দোকান ও চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল। উপরতলায় চলত অ্যানিমেশন ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। আগুন লাগার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।উদ্ধার করে বহু মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। মৃতদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। যারা আগুন থেকে বাঁচতে উপরতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েক জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।ঘটনার পরই চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভবনের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আবাসিক ভবনটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আহতদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজও নেন তিনি। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসন।মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে। লখনউয়ের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে।

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

সিএএ আন্দোলনের আগুন এবার ফিরল ফাইলে! পুরনো মামলা খুলে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় রেলের সম্পত্তি নষ্ট, ট্রেনে আগুন লাগানো এবং পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগে এবার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো মামলার ফাইল খুলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে বিশেষ সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের রাজ্য সফরের দিনই এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রেলের সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তদন্তে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও সেই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি কামরায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে যায় রেলের বহু সম্পত্তি। এর জেরে বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। অনেক ট্রেন ঘুরপথে চালাতে বাধ্য হয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল ভারতীয় রেল।নবান্নে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রীকে ভবানীপুরে রেল সুরক্ষা বাহিনীর একটি বিশেষ দপ্তর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। সেখানে বসেই পুরনো নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সূত্রের খবর, শুধু অভিযুক্তদের চিহ্নিত করাই নয়, রেলের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করলে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।রেল আইনে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা, ভাঙচুর চালানো বা পরিষেবা ব্যাহত করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই বহু বছর পর এই মামলাগুলির তদন্ত ফের শুরু হওয়ার খবরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৬
দেশ

হোটেলে আগুন, তদন্তে বিস্ফোরক মোড়! বাংলাদেশিদের জাল আধার-পাসপোর্ট বানানোর অভিযোগ মালিকের বিরুদ্ধে

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক গাফিলতির অভিযোগের মধ্যেই এবার উঠে এসেছে জাল পরিচয়পত্র চক্রের অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জাল নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর দিল্লির সমস্ত হোটেল, রেস্তরাঁ, ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং সিনেমা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজের ছত্তরপুরের আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিতেন লাভকেশ বাজাজ। অভিযোগ, সেই ঠিকানা ব্যবহার করে আধার কার্ড, পাসপোর্ট-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হত। অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন এই পুরনো মামলার তথ্যও ফের সামনে এসেছে।জানা গিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় জাল নথি ব্যবহার করে এক বাংলাদেশি পরিবারের থাকার খবর পায় পুলিশ। তদন্তে একটি বাড়ি থেকে এক মহিলা এবং তাঁর নাতিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একাধিক পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পরিচয়পত্রে আলাদা নাম ও ঠিকানা থাকলেও ছবিটি ছিল একই ব্যক্তির।পুলিশের দাবি, ওই জাল নথিগুলির মধ্যে থাকা একটি ঠিকানা দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুর এলাকার। তদন্তে সেই ঠিকানার সূত্র ধরেই লাভকেশ বাজাজের নাম উঠে আসে। পরে জেরায় তিনি নাকি স্বীকার করেন যে, অর্থের বিনিময়ে নিজের ঠিকানা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন।এর আগে জালিয়াতি চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিছুদিন জেলে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এবার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।দিল্লি পুলিশের তদন্ত এখন দুই দিকেই এগোচ্ছে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তা গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে জাল পরিচয়পত্র চক্রের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুন ০৬, ২০২৬
দেশ

ভোরের আগুনে ৯ জনের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর! দিল্লিতে শোকের ছায়া

দিল্লির শাহদরা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একটি বার্তায় জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনাও করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রত্যেক পরিবারের হাতে দুই লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে।রবিবার ভোররাতে এই আগুন লাগে, যার ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোর প্রায় তিনটে সাতচল্লিশ মিনিট নাগাদ দমকলের কাছে আগুন লাগার খবর পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।আগুন লাগার সময় বহু মানুষ ঘরের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। দমকল কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে প্রায় দশ থেকে পনেরো জনকে বের করে আনেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত দুজন সামান্য আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আগুন নেভানোর কাজে নামানো হয় দমকলের বারোটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উপরের তলাগুলিতে এখনও ধোঁয়া রয়েছে। তাই সেখানে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মে ০৩, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে! একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে এই ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনার অবরোধ ও নজরদারি আগের মতোই চালু থাকবে।ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকারের মধ্যে বিভাজন রয়েছে এবং সেই পরিস্থিতিতে তারা এখনও কোনও ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেনি। তাই আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ স্থগিত রাখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকাকেও তিনি প্রশংসা করেন। তবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ও ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েন ও অবরোধ বজায় থাকবে এবং সেনাবাহিনী সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকবে।এই অবস্থায় হরমুজে আমেরিকার অবস্থান নিয়েই আপত্তি তুলেছে ইরান। তারা জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার শর্তে কোনও যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি নয়। ইরানের সরকারি সূত্রে দাবি, এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা অর্থহীন হয়ে উঠছে।এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদে সেই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, ইরান এখনও সেখানে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দুটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। তাদের অভিযোগ, আমেরিকার এই পদক্ষেপ যুদ্ধোন্মুখ আচরণ এবং জলদস্যুতার সমান। পাশাপাশি আমেরিকার শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইরান।অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ইরান আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা জানার জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি জারি থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

মধ্যমগ্রাম স্টেশনের পাশে ভয়াবহ আগুন! একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দাউ দাউ করে জ্বলছে দোকান

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম স্টেশনের পাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে একাধিক দোকান। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে দূর থেকে দেখা যাচ্ছে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। তবে ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের।প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, একটি কাঠগোলায় প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলিতে। স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় বহু খাবারের দোকান রয়েছে। সেখানে মজুত ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। আগুন ছড়িয়ে পড়তেই একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়ংকর আকার নেয় এবং কাঠগোলা সংলগ্ন বহু দোকানে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। আগুনের জেরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়েছেন।স্টেশন লাগোয়া এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। ট্রেন চলাচল সাময়িক ভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না এলে কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।এই অগ্নিকাণ্ডে বহু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনই জানা যায়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

মার্চ ০৪, ২০২৬
কলকাতা

২৭ জনের মৃত্যু! এখনও নিখোঁজ বহু! এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন, প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। শুক্রবার রাতের দিকে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে দমকল ও পুলিশের যৌথ দল। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭-এ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে ওই কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন পরে কেন তদন্তে এই তৎপরতা।গত রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগে। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ কারখানার গুদাম অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলে। ১২টি ইঞ্জিন নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভিতরেই আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে তাঁদের আর্তনাদ শোনার কোনও সুযোগই পাননি কেউ।ভয়াবহ এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অবশেষে সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। আগুনে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই কারখানাতেই এবার তদন্ত চালাবে বিশেষ দল। পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দু কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি (ক্রাইম), ডিইবি-র এক ইন্সপেক্টর এবং আরও এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, কারখানায় কী ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়ালসব দিকই খতিয়ে দেখবে সিট। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নামজাদা একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জলাভূমি বুজিয়ে কারখানা তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। তদন্ত আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজ্য

আনন্দপুর আগুন দুর্ঘটনা নয়! ব্যারাকপুর থেকে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহের

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মোমো কোম্পানির আধিকারিক। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্ন তুলে প্রথমে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই সুরেই কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মিসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।সভায় বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ বলেন, আনন্দপুরের মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।তৃণমূলকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, এই ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন এখনও নিখোঁজ। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মোমো কোম্পানিতে কারা টাকা ঢেলেছে, মালিক কার সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন এবং কেন এখনও পর্যন্ত ওই মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি, তার জবাব রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, মৃতরা বাংলার নাগরিক। তা হলে এখানে কেন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর আরও প্রশ্ন, যদি এরা অনুপ্রবেশকারী হতেন, তা হলে কি সরকারের প্রতিক্রিয়া একই রকম হত।অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলের জেলে যাওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীরা ৩২ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং জলাজমির উপর বেআইনি ভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করুন, এপ্রিলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে একে সকল অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালই হবে তৃণমূলকে বিদায় জানানোর বছর।অমিত শাহের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রতিবাদের ধরনই তাদের সংস্কৃতি প্রকাশ করে। তাঁর কটাক্ষ, শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে ডিজে বাজছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। তন্ময় ঘোষ আরও বলেন, অমিত শাহ যখন বাংলায় এসে এই ধরনের মন্তব্য করছেন, তখন মধ্যপ্রদেশে দূষিত জল খেয়ে মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন কোনও দিনই বাস্তব হবে না।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দপুর ট্র্যাজেডিতে বড় ঘোষণা, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনার চার দিন পর পর্যন্ত মোট ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার দুদিন পর ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ওই গুদামের সঙ্গে যুক্ত মোমো কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার আনন্দপুরে মিছিল করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরির দাবি তোলেন। পাশাপাশি মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এদিকে, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এরপর তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মৃতদের পরিবারগুলির জন্য সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানান, প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এই আর্থিক সাহায্য শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জোগাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল যে সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে রয়েছেন।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দুকে আটকাতেই কি ১৬৩ ধারা? আনন্দপুর কাণ্ডে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর

আনন্দপুরের জতুগৃহ কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে যেতে চান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই উদ্দেশ্যে গড়িয়া শীতল মন্দির থেকে আনন্দপুরের ঘটনাস্থল পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চেয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার শুনানির অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।তবে পুলিশের তরফে শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নরেন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে একটি ইমেলে জানানো হয়েছে, যে রুটে মিছিল করার আবেদন করা হয়েছে, সেখানে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। মিছিল হলে বড়সড় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যুক্ত জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও কর্মীদের যাতায়াতও ওই রুট দিয়েই চলছে। সেই কারণে মিছিল করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করে পুলিশ অনুমতি খারিজ করেছে।ঘটনাস্থলের গুদামের চারপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই এলাকায় মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের নোটিসে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং প্রমাণ লোপাট বা উদ্ধারকাজে কোনও রকম বাধা যাতে না আসে, সেই কারণেই এই ধারা জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগুন লাগার চার দিন পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঘটনাস্থলে যাবেন বলেই কি ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।এদিকে, ঘটনার চার দিনের মাথায় স্পষ্ট হয়েছে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ। দমকল ও ফরেন্সিক বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে আগুন লাগে ডেকরেটর্সের গুদামে, মোমোর গুদামে নয়। ডেকরেটর্সের গুদামের পশ্চিম দিকে থাকা তিনতলা একটি ভবনের অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন গ্রাস করে নেয় ডেকরেটর্সের গুদাম এবং পাশের মোমো গুদামটিকেও।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় বড়সড় ‘অ্যাকশন’! ২৫২টি বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০—সরকারি সমীক্ষায় চাঞ্চল্য

অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, জেলায় জেলায় নথি যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত।মাদ্রাসা নিয়ে বাংলায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলির উপর চালানো সমীক্ষার পর প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলায় মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-পর্বে শুধু অনুমোদন রয়েছে কি না, তা-ই নয়পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি, অর্থের উৎস, নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন এবং পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা নির্দিষ্ট স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২,৩৯৬। এর মধ্যেই প্রথম ধাপে ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি বন্ধের নোটিস জারি করেছে সরকার।খারিজি মাদ্রাসাই কি নিশানায়?সরকারি পদক্ষেপের আওতায় আসা ২৫২টি মাদ্রাসার বড় অংশই খারিজি বা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত মাদ্রাসা বলে খবর। এই প্রতিষ্ঠানগুলির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই মূলত প্রশাসনের নজরদারি।তবে সরকারের অবস্থানও স্পষ্টকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতে পারে না। যে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই কিংবা ন্যূনতম পরিকাঠামো ও নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু বন্ধ নয়, শোকজ-এর পরেও কড়া বার্তাপ্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হলেও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত দেওয়া হয়েছে শোকজ নোটিস। অর্থাৎ, তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।প্রশাসনের প্রশ্নকোন আইনি অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান চলছে? কতজন পড়ুয়া রয়েছে? শিক্ষক কারা? অর্থ আসছে কোথা থেকে? পর্যাপ্ত ভবন ও শিক্ষার পরিকাঠামো রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।জানা যাচ্ছে, সন্তোষজনক উত্তর বা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।২২ জেলায় নথি যাচাইতারপরই সিদ্ধান্তমাদ্রাসা নিয়ে এই অভিযান হঠাৎ করে নয়। রাজ্য সরকারের নির্দেশেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছিল সমীক্ষা। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়।সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে দাবি, অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলি নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে সরকার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না।মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলির যাবতীয় নথি সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি চালু রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্ন তুললেন ত্বহা সিদ্দিকীতবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেনকেন কোনও মাদ্রাসাকে শোকজ করা হচ্ছে, কেনই বা বন্ধ করা হচ্ছে, তা আগে সাধারণ মানুষকে জানানো হোক।তাঁর বক্তব্য, বহু মাদ্রাসা সাধারণ মানুষের অনুদান ও সাহায্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না, সরকারি পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয় বলে দাবি তাঁর।ফলে সরকারের প্রশাসনিক যুক্তির বিপরীতে উঠে আসছে অন্য প্রশ্নঅনুমোদনের মাপকাঠি কী? কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূত এবং কোনটি নয়? আর বহু বছর ধরে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎই বা কী?রাজনীতির ময়দানেও বাড়ছে উত্তাপমাদ্রাসা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সংখ্যালঘু শিক্ষা এবং সরকারি অনুমোদনের প্রশ্নের সঙ্গে এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বনাম দীর্ঘদিনের সামাজিক উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা।একদিকে সরকারের যুক্তিআইন ও নিয়মের বাইরে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্যশুধু সরকারি অনুমোদনের অভাবকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।ফলে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ এখন শুধু প্রশাসনিক ফাইলের বিষয় নয়; তা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতি ও সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।উত্তরাখণ্ডের পর বাংলাতেও কড়া পদক্ষেপঅনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির অন্য রাজ্যেও রয়েছে। উত্তরাখণ্ডে ইতিমধ্যেই একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলার এই পদক্ষেপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।এখন মূল নজর শোকজ পাওয়া প্রায় ১০০টি মাদ্রাসার জবাবের দিকে। তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকাঠামোর প্রমাণ দিতে পারে কি না, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্টমাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর নজরদারির বাইরে রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার এই অ্যাকশন আগামী দিনে আরও বড় প্রশাসনিক অভিযানের ইঙ্গিত কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিদেশ

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা! ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবার ন্যাটোর দরজায়?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার পশ্চিম ইউক্রেনে ঘটনাটি ঘটে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলায় ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ২০৬ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পোল্যান্ডের একটি রেল সংস্থার পরিচালিত ওই ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল। পথে আচমকাই ট্রেনটির উপর একের পর এক রুশ ড্রোন হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে ট্রেনে আগুন ধরে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পর প্রায় ছঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে গোটা ইউরোপেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পোল্যান্ডের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য দেশ। ন্যাটোর চুক্তি অনুযায়ী, কোনও সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য সদস্যদেশগুলির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে।তবে রবিবারের ঘটনাটিকে সরাসরি পোল্যান্ডের উপর রুশ হামলা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের একাংশের মতে, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে এমন ঘটনা ন্যাটোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর প্রস্তুতি ও ঐক্য পরীক্ষা করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। সে ক্ষেত্রে গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।তবে রবিবারের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলার অভিযোগ নতুন করে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাইরাশিয়া যদি সত্যিই পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়, তখন ন্যাটো কী পদক্ষেপ করবে?

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশ

একের পর এক ভূমিধসে বসে যাচ্ছে আস্ত পাহাড়! সিকিমে হড়পা বানের আতঙ্ক, সরানো হল ৩৮ পরিবার

পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম গ্রাম এবং সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ভূমিধসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। এর জেরে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সিকিম প্রশাসনের তরফে রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের বেশ কয়েকটি বাড়িও ইতিমধ্যে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সিঙ্গলিথামের পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্রমাগত কাদা, বড় পাথর এবং গাছ নেমে এসে স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিচ্ছে। ফলে রিম্বির নিচের দিকে আচমকা হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের নজরদারিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, রিম্বির ঠিক উপরে সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে একটি টিলা ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় মাটি, কাদা এবং পাথর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত অগস্ট মাস থেকেই ওই এলাকায় ভূমিধস শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে।ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ঝোরা অবরুদ্ধ হলে নিচের এলাকায় হড়পা বান তৈরি হতে পারে কি না, সেই দিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বড় চমক মমতার, আসন্ন উপনির্বাচনে ২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলের তরফে জানানো হয়েছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জল্পনার অবসান হল।দলের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন শনিবারই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তারা ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফে মমতাকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করে বিধানসভায় ফেরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।১৫ বছর পর বিধানসভার বাইরে মমতা?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন মমতা। ২০১৬ সালে ফের ভবানীপুর থেকে জয় পান তিনি। ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর উপনির্বাচনে জিতে আবারও বিধানসভায় জায়গা করে নেন। তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর তাঁকে বিধানসভার বাইরে থাকতে হতে পারে।কেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। ভোটের গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর।তৃণমূলে গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহতপ্রার্থী ঘোষণার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও জটিল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীদুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। উভয় শিবিরই দলের নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বীকৃতি দাবি করেছে।১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে নির্বাচন কমিশন। বিদ্রোহী শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগে দলের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হয়নি।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্ত্রীর পুরনো হাসি ভুলতে পারেননি! ৮৮ বছর বয়সে নিজের হাতেই বানিয়ে ফেললেন তাঁর মুখ

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ৮৮ বছরের ভূপতিরঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ কর্মজীবনে মধ্যমগ্রাম হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। প্রায় তিন দশক আগে অবসর নিয়েছেন। এখন পেনশনের টাকাতেই চলে তাঁর সংসার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারে একের পর এক কঠিন সময় এসেছে তাঁর জীবনে।ভূপতির স্ত্রী অঞ্জলির বয়স সত্তরের কোঠায়। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েরই মধ্যমগ্রামে বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে রয়েছেন পুত্রবধূ এবং নাতিও। তবে করোনা অতিমারির সময় একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন ভূপতি ও অঞ্জলি। ছেলের পরিবারকেও এরপর নিজেদের দায়িত্বে আগলে রেখেছেন তাঁরা।এরই মধ্যে গত ছমাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অঞ্জলি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, এখন হাতে কলম নিয়ে সই করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। একসময় যে স্ত্রী সংসারের নানা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে সব সামলে নিতেন, আজ সেই মুখেই অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট।কিন্তু স্ত্রীর সেই পুরনো হাসি এখনও ভুলতে পারেননি ভূপতি। বরং সেই হাসিই তাঁর মনে আজও একই রকম উজ্জ্বল। তাই স্ত্রীর মুখের সেই পুরনো অবয়ব এবং হাসিকে ধরে রাখতে নিজের হাতেই তৈরি করেছেন একটি প্রতিকৃতি।শিক্ষকতার পাশাপাশি হাতের কাজেও যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন ভূপতি। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে মাটি, নারকেলের খোল, গাছের ডাল-সহ নানা সাধারণ উপকরণ দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেছেন তিনি। ফেলে দেওয়া জিনিস তাঁর হাতে নতুন রূপ পেয়েছে। সেইসব কাজ এখনও তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় যত্ন করে রাখা রয়েছে।এ বার সেই দক্ষতাকেই কাজে লাগিয়েছেন নিজের জীবনসঙ্গীর স্মৃতি ধরে রাখতে। প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি করেছেন অঞ্জলির হাসিমুখের একটি প্রতিকৃতি। বাড়ির একটি শোকেসে রাখা রয়েছে সেই মূর্তি। স্ত্রীর পাশে বসে থাকার সময় কখনও অসুস্থ অঞ্জলির দিকে তাকান, কখনও আবার চোখ চলে যায় সেই হাসিমুখের প্রতিকৃতির দিকে।ভূপতির কথায়, তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় ৫৯ বছরের। অঞ্জলি বরাবরই হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। সংসারে যত সমস্যাই আসুক, তিনি কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখেই কঠিন সময় পার করেছেন। সেই হাসিই ছিল ভূপতির কাছে বড় ভরসা।আজ অঞ্জলি অসুস্থ। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিও নেই। মুখের সেই পুরনো হাসিও আর দেখা যায় না। কিন্তু ভূপতির স্মৃতিতে অঞ্জলির হাসি এখনও একই রকম জীবন্ত। সেই হাসিকে অমলিন রাখতেই স্ত্রীর মুখের আদলে তৈরি করেছেন এই প্রতিকৃতি।পুরনো দিন আর ফিরে আসবে না, তা জানেন ৮৮ বছরের ভূপতি। তবু তাঁর একটাই আশা, স্ত্রী আবার শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে একটু হাঁটাচলা করতে পারবেন, আগের মতো তাঁর পাশে বসতে পারবেন। আর সেই আশার সঙ্গেই ঘরের শোকেসে হাসিমুখে থেকে গিয়েছে অঞ্জলির সেই পুরনো মুখ।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, সঠিক নিয়মে পুজোয় পাবেন হাতে নাতে ফল

ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব গণেশ চতুর্থী। বিঘ্নহর্তা, জ্ঞানদাতা এবং শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে গণেশের আরাধনা করেন ভক্তরা। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই শুরু হবে দশ দিনব্যাপী গণেশ উৎসব।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় বাপ্পাকে বাড়িতে স্বাগত জানালে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে মূর্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা সাজসজ্জা দেখলেই হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মূর্তির উচ্চতা, ভঙ্গি, রং, শুঁড়ের দিক এবং বাহনের উপস্থিতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি?বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, বাড়িতে পুজোর জন্য গণেশের মূর্তি খুব বড় হওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৯ থেকে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিকে গৃহস্থের পুজোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এর তুলনায় বড় মূর্তি রাখলে পুজো ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা হতে পারে বলেও মত রয়েছে।মূর্তির ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। বাড়িতে পুজোর জন্য উপবিষ্ট গণেশের মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই ভঙ্গি শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চার হাতের গণেশ মূর্তির ক্ষেত্রে উপরের বাম হাতে পাশ, ডান হাতে অঙ্কুশ, নীচের বাম হাতে মোদক এবং নীচের ডান হাত অভয় মুদ্রায় থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকবে?গণেশের মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়যুক্ত গণেশের মূর্তি বাড়িতে স্থাপনের জন্য শুভ। এই ধরনের গণেশকে বামামুখী গণেশ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রূপ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। এই রূপকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়মকানুন মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির পুজোর জন্য মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি খেয়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।গণেশের বাহন ইঁদুর থাকা কি জরুরি?ভগবান গণেশের বাহন ইঁদুর। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে তাঁর বাহন ইঁদুরের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়।প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির সঙ্গে তাঁর বাহন ইঁদুরের উপস্থিতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ মূর্তি কেনার সময় এই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।কোন দিকে মুখ করে থাকবে গণেশের মূর্তি?বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে দিকেরও গুরুত্ব রয়েছে বলে বাস্তুশাস্ত্রে প্রচলিত মত রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গণেশের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে রেখে মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর সময়ও গণেশের মুখ যেন পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে গণেশের মূর্তির আকার, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক কিংবা মূর্তি স্থাপনের দিক নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক মত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

১৪ নাকি ১৫ সেপ্টম্বর, কবে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী? জানুন ঠিক কোন সময়ে পুজোয় মিলবে দ্বিগুণ আর্শীবাদ?

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব গণেশ চতুর্থী। গণেশোৎসব নামেও পরিচিত এই উৎসব ভগবান গণেশের জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়। জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা গণেশের আরাধনা করে ভক্তরা সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল। সাধারণত ১০ দিন ধরে চলে এই উৎসব। অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়।গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। গণেশ বিসর্জন হবে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। উৎসবের শুরুতে বাড়ি ও বিভিন্ন মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো, প্রার্থনা ও আরতির মাধ্যমে চলে বাপ্পার আরাধনা। ফুল, ধূপ, প্রদীপ, ফল, মিষ্টি এবং বিশেষ করে মোদক নিবেদন করা হয় গণেশকে।গণেশ চতুর্থী ২০২৬-এর পুজোর শুভ মুহূর্তগণেশ পুজোর ক্ষেত্রে মধ্যাহ্নকালকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই ভগবান গণেশের জন্ম হয়েছিল।১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ পুজোর শুভ সময়:সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।গণেশ চতুর্থীর তিথি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে।শহরভেদে গণেশ পুজোর শুভ সময়বিভিন্ন শহরে স্থানীয় সময় অনুযায়ী গণেশ পুজোর শুভক্ষণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।পুনে: সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটনয়াদিল্লি: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচেন্নাই: সকাল ১০টা ৫১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটজয়পুর: সকাল ১১টা ৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটহায়দরাবাদ: সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটগুরগাঁও: সকাল ১১টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটচণ্ডীগড়: সকাল ১১টা ৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটকলকাতা: সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটমুম্বই: সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটবেঙ্গালুরু: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৮ মিনিটআহমেদাবাদ: সকাল ১১টা ২১ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটনয়ডা: সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটকীভাবে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী?গণেশ চতুর্থীর উৎসব শুরু হয় বাড়ি বা মণ্ডপে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এরপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা, পুজো ও আরতি করা হয়। ভক্তরা বাপ্পাকে ফুল, ফল, দূর্বা, ধূপ এবং বিভিন্ন মিষ্টি নিবেদন করেন। এর মধ্যে গণেশের প্রিয় মিষ্টি হিসেবে মোদকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।অনেক পরিবারে গণেশের মূর্তি বাড়িতে এনে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েক দিন ধরে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বড় বড় মণ্ডপ তৈরি করে গণেশোৎসবের আয়োজন করা হয়। পুজোর পাশাপাশি সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, সঙ্গীতানুষ্ঠান, খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও দেখা যায়।উৎসবের শেষ দিনে গণেশের মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জলাশয়ে বাপ্পার বিসর্জনের মাধ্যমে গণেশোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

রাশি অনুযায়ী বেছে নিন গণপতি বাপ্পার মূর্তির রং, কোন রাশির জন্য কোন রং শুভ?

গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বাড়িতে গণপতি বাপ্পার মূর্তি স্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ভক্তরা। মূর্তি কেনার সময় সাধারণত আকার, রূপ, ভঙ্গি এবং পুজোর নিয়মের দিকে নজর দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির রঙেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিভিন্ন রঙের সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী, নিজের রাশি অনুসারে গণেশের মূর্তির রং বেছে নিলে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রচলিত জ্যোতিষীয় মতে, ওই সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করবে। এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কোন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়।মেষ ও বৃষ রাশির জন্য লাল ও হালকা গোলাপিমেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলের সঙ্গে লাল রঙের সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য লাল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সাহস, কর্মশক্তি ও সংকল্পের প্রতীক। জীবনের বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে লাল গণপতির আরাধনা ফলদায়ক হতে পারে বলে বিশ্বাস।বৃষ রাশির অধিপতি শুক্র। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ক্রিম বা হালকা গোলাপি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, আরাম, সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।মিথুন ও কর্কটের জন্য সবুজ ও সাদামিথুন রাশির অধিপতি বুধ। তাই মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সবুজ রং বুদ্ধি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।কর্কট রাশির অধিপতি চন্দ্র। তাই এই রাশির জন্য সাদা রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। সাদা রং শান্তি, পবিত্রতা, মানসিক স্থিরতা এবং পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক বলে বিশ্বাস করা হয়।সিংহ ও কন্যার জন্য কমলা ও সবুজসিংহ রাশির অধিপতি সূর্য। এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কমলা, জাফরান বা হালকা সোনালি রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি, নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রতীক।কন্যা রাশির অধিপতিও বুধ। তাই কন্যা রাশির জন্য সবুজ রঙের গণেশ মূর্তি উপযুক্ত বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। সবুজ রং বুদ্ধি, দক্ষতা ও যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলা ও বৃশ্চিকের জন্য গোলাপি ও মেরুনতুলা রাশির অধিপতি শুক্র। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গোলাপি এবং হালকা নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং সৌন্দর্য, সম্পর্কের ভারসাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক।বিশেষ করে ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীর সময় চন্দ্র তুলা রাশিতে অবস্থান করার বিষয়টিকেও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই রং শক্তি, মানসিক সাহস এবং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।ধনু ও মীনের জন্য হলুদধনু রাশির অধিপতি বৃহস্পতি। তাই ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। হলুদ রং শিক্ষা, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়।মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্যও হলুদ রঙের গণেশ মূর্তি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বৃহস্পতির সঙ্গে হলুদ রঙের সম্পর্ক থাকায় এই রঙকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।মকর ও কুম্ভের জন্য মাটির রং ও নীলমকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ধূসর, পাথুরে বা মাটির মতো বাদামি রঙের গণেশ মূর্তি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রং শনির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ধীরস্থির অগ্রগতির প্রতীক বলে মনে করা হয়।অন্যদিকে, কুম্ভ রাশির জন্য নীল রঙের গণেশ মূর্তি শুভ বলে জ্যোতিষীয় বিশ্বাস রয়েছে। নীল রং স্থিরতা, গভীরতা ও মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।তবে রাশি অনুযায়ী গণেশ মূর্তির রং বেছে নেওয়ার এই ধারণাগুলি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ও পছন্দ ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal